চার বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)। এ বিনিয়োগের পরিমাণ গত চার বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। খবর রয়টার্স।
ওষুধ আমদানি পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সে নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই শুক্রবার নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ওষুধ জায়ান্ট জেঅ্যান্ডজে। বিনিয়োগের অংশ হিসেবে চারটি নতুন কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে তারা। যার মধ্যে একটি উত্তর ক্যারোলিনার উইলসনে স্থাপন করা হবে, যেখানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। এ প্রকল্পে ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করবে জেঅ্যান্ডজে। আশা করা হচ্ছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে নির্মাণকালীন পাঁচ হাজার ও স্থায়ীভাবে ৫০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে। অন্য চারটি কারখানা কোথায় নির্মাণের পরিকল্পনা করছে তা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া এলি লিলি ও অ্যাপলের মতো মার্কিন কোম্পানিগুলোও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে দেশীয় উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ওষুধ আমদানির ওপর সম্ভাব্য ২৫ শতাংশ শুল্কের প্রভাব কমাতে পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন প্লান্টে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লিলি। আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের বিনিয়োগ হবে ৫০ হাজার কোটি ডলার।
বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক জেঅ্যান্ডজে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উৎপাদন সুবিধা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগের প্লান্টগুলো সম্প্রসারণ এবং নতুন গবেষণা ও উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করেছে তারা। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে জেঅ্যান্ডজের ওষুধ বিক্রি ৬ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
জেঅ্যান্ডজে বিনিয়োগকারী জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের পোর্টফোলিও ম্যানেজার ব্রায়ান মুলবেরির মতে, যদি জেঅ্যান্ডজে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য থেকে তাদের ভবিষ্যৎ ওষুধের রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে প্রস্তাবিত শুল্ক প্রতিষ্ঠানটির ওপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না।